
নোহান আরেফিন নেওয়াজ, শান্তিগঞ্জ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের গাগলী গ্রামের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশ দূষণের তোয়াক্কা না করেই পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তুলেছেন একই গ্রামের নবাব মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা তার এই পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্যে সৃষ্ট দুর্গন্ধে বসবাস অনুপযোগী হয়ে উঠেছে আশপাশের এলাকা। ফার্মের বিষ্ঠা থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধে শিশু-বয়োবৃদ্ধ লোকজনদের জীবনযাপন ও বসতবাড়িতে বসবাস করা প্রায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। পোল্ট্রি ফার্ম থেকে সৃষ্ট এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিতে পোল্ট্রি মালিক মিজানুর রহমানকে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তার তোয়াক্কা না করায় এর প্রতিকার চেয়ে
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী গাগলী গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে ওয়াসিম উদ্দিন।
সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে গাগলী গ্রামের ভূক্তভোগী ওয়াসিম উদ্দিনের বসতবাড়িতে গিয়ে দেখা যায় যে, ভূক্তভোগী ওয়াসিম উদ্দিনের বসতবাড়ির পাশেই পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তুলেছেন একই গ্রামের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। তিনি নিজে তার পোল্ট্রি ফার্ম এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস না করে অন্যতায় বসবাস করেন।
জনবসতিপূর্ণ এলাকার ৫০০ গজ দূরত্বে মুরগি উৎপাদনের ফার্ম স্থাপনের বিধি থাকলেও মিজানুর রহমান নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই প্রতিবেশীর বসতঘরের সীমানা ঘেঁষে ফার্ম নির্মাণ করেছেন। প্রায় ২ হাজার সেডের পোল্ট্রি মুরগীর বিষ্ঠা ফেলে রেখেছেন ফার্মের পাশেই। পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান আশপাশের পরিবেশ দুর্গন্ধমুক্ত রাখতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে ফার্মের আশপাশের এলাকায়। এতে অভিযোগকারী ওয়াসিম আলীর পরিবার ও আশপাশের বসতবাড়ির শিশু-বয়োবৃদ্ধসহ সকল লোকজন পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে বসতবাড়িতে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিবেশ সংকট থেকে প্রতিকার চান অভিযোগকারী ওয়াসিম আলী।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের চাচা মুক্তার হোসেন, প্রতিবেশী সিরাজুল মিয়া, ফখরুজ্জামান ও গুলজার আহমদ বলেন, এ পোল্ট্রি ফার্মের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে আমাদের বসতবাড়িতে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফার্মের দুর্গন্ধে রোগ জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার কারণে আমাদের এবং আশপাশে বসবাসরত লোকজন ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দিন দিন রোগ বালাই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দিনের বেশীর ভাগ সময় বসতঘরে অবস্থান করতে পারি না। শুধু খাবার সময়ে বসত বাড়ীতে আসি। বর্ষা মাসে মেঘ বৃষ্টি হলে আরো বেশী দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে আমরা খুবই দুর্ভোগের মধ্যে আছি।
পোলট্রি ফার্মের মালিক গাগলী গ্রামের নবাব মিয়ার ছেলে মিজানুর রহমান বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপন করা অবৈধ এটা আমি জানি। আমি চাই আমার পাড়া প্রতিবেশীকে নিয়ে চলতে। কারো কষ্ট হউক আমি তা চাই না। আমি ধানের তোষ ফার্মের পাশে ফেললেও ফার্মের ময়লা, মোরগের বিষ্ঠা ও আবর্জনা দুরবর্তী জায়গায় নিরাপদ দুরত্বে ফেলি। এখন থেকে আশপাশে আর আবর্জনা ফেলবো না।
অভিযোগকারী মো. ওয়াসিম উদ্দিন জানান, ‘আমার বসতভিটার নিকটে পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপন করায় পোল্ট্রি ফার্মের দুর্গন্ধে পরিবার নিয়ে বসত বাড়িতে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে আমিসহ আমার পরিবারের লোকজন ও শিশুরা প্রায় অসুস্থ হয়ে রোগে আক্রান্ত হচ্ছি এবং আমার পরিবারে শ্বাসকষ্ট রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি মিজানুরকে তার ফার্মের ময়লা ও আর্বজন নিরাপদ জায়গায় ফেলতে ও ফার্মের দুর্গন্ধ না ছাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করি। সে কোন কথাই শুনেনি। বরং আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। তাই আমি বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহি অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। জনগণের বসবাসে বিঘ্ন ঘটবে এমন কোনো কাজ করা যাবে না। দুর্গন্ধ ছড়ায় কিংবা পরিবেশের ক্ষতিসাধন করে এমন পোল্ট্রি ফার্ম জনবসতি থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’