• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

বৈছাআ’র সিলেট মহানগর কমিটি ঘোষণার পরপরই বিতর্ক, ক্ষোভ

The Wall News.Com
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৫
বৈছাআ’র সিলেট মহানগর কমিটি ঘোষণার পরপরই বিতর্ক, ক্ষোভ

ওয়াল নিউজ ডেস্ক


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। রোববার রাতে অনুমোদিত কমিটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করার পরপরই এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সিলেটে জুলাই আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

কমিটিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হোসাইনকে আহ্বায়ক, মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী তামিম আহমেদকে সদস্য সচিব, এমসি কলেজের শিক্ষার্থী হাসান আহমদ চৌধুরী মাজেদকে মুখ্য সংগঠক এবং মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ হোসেনকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খবর সিলেট টুডের।

এদিকে ঘোষিত কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার দুপুরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দলনের কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সমন্বয়ক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অন্যতম সমন্বয়ক ফয়সাল হোসেন। পোস্টে তিনি কেন্দ্রিয় আরেক সহ-সমন্বয়ক ও সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিবের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের মূল যোদ্ধাদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ করেন।

ফেসবুকে দেয়া পোস্টে ফয়সাল লিখেন- ‘সিলেটের আন্দোলনে জীবনবাজি রেখে ময়দানে লড়াইকারীদের বড় একটা অংশকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র গালিব ভাইয়ের নিজের কথামতো কাজ করবে সে যদি লীগও হয়, নন-সিলেটিও হয় তাদেরকে দিয়ে যে কমিটিতে আসার কথা, এখন দেখলাম তাই হলো।’

তিনি লিখেন- ‘এমন একজনকে কমিটির প্রধান করে রাখা হলো যে লীগের হয়ে ক্ষমতা চর্চা করতো। যাকে আমরা কখনো জুলাই বিপ্লবে তো অংশগ্রহণ করতে দেখিনি। লীগের কিছু টোকাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে আন্দোলনের অবস্থা জানতে চেষ্টা করতো, তেমন দু’একটা পিক হয়তো থাকতে পারে। এমনকি যে ক্যালচার ফ্যাসিস্ট উদীচী আর ছায়ানটের সদস্য তিনি।’

ফয়সাল আরও লিখেন- ‘এমনকি যেই আন্দোলনের একজন অংশীজন আমি। এমনকি কি সিলেট থেকে যেই দুজন কেন্দ্রের ১৫৮ জনের মধ্যে আমিও একজন। আমার থেকে কোনপ্রকারের পরামর্শ নেওয়া হয়নি। সুতরাং সত্যিকারের বিপ্লবী যাদের এই কমিটিতে নাম মাত্র রাখা হয়েছে তারাও যেন সবার আগে এই কমিটি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখে। আমি এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করলাম।’

ফয়সালের এই পোস্টে গিয়ে অনেকেই গালিবসহ নতুন কমিটির সদস্যদের অবাঞ্চিত করার কথা বলেছেন।

এ ব্যাপারে সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক আসাদুল্লাহ আল গালিবের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এর আগে রোববার রারে ঘোষিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে ১৯ জনকে। তারা হলেন- মাহফুজুর রহমান সাকের, লুৎফুর রহমান, ফাহিমা আক্তার, সায়মন সাদিক জুনেদ, মুহাম্মাদ বিজয় খান, মোহাম্মদ জিয়াদ উল ইসলাম, সালমা বেগম, রুহুল আমিন, ফুয়াদ হাসান, তৈয়বুর রহমান তুহিন, আলি নেওয়াজ, মো. হালিম, আব্দুস ছামাদ সাদ্দাম, আতাহার আলী রাহাত, মো. জুবায়ের আহমদ, রেদোয়ান হোসেন শাওন, মো. জবরুল ইসলাম রায়হান ও শাহাবুদ্দিন খান।

আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম সদস্য সচিব ২৩ জন, সংগঠক ৩০ জন এবং ১৭৭ জন সদস্য রয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ সোহেল রোববার সিলেট মহানগর শাখার এই আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। এই আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ হবে ৬ মাস।