• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

চাপ দিলে পানি আসে না নলকূপে, কমলগঞ্জে পানীয় জলের সংকট

The Wall News.Com
প্রকাশিত জানুয়ারি ৩১, ২০২৫
চাপ দিলে পানি আসে না নলকূপে, কমলগঞ্জে পানীয় জলের সংকট

বিশেষ প্রতিনিধি


শুষ্ক মৌসুম আসলেই অনা বৃষ্টির কারণে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের হাওর-বাওর, খাল-বিল নদী-নালার পানি শুকিয়ে যায়। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নলকূপে পানির সংকট দেখা দেয়। সম্প্রতি উপজেলার পতনঊষার, মুন্সীবাজার, রহিমপুরসহ কয়েকটি ইউনিয়নে অনেক নলকূপে পানি উঠছে না বলে জানিয়েছেন সাধারণ মানুষেরা। এতে করে এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

নলকূপ থেকে পানি পাচ্ছেন না এমন এলাকাগুলোর স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েকবছর ধরে শুষ্ক মৌসুমের দুই থেকে তিন মাস বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। এই সময়টায় অগভীর নলকূপ থেকে পানি পাওয়া যায় না। ব্যাপকভাবে পানির অপচয়, বোরো ধান আবাদ বেড়ে যাওয়া, খাল-বিল, পুকুর শুকিয়ে ফেলা, অপরিকল্পিতভাবে নলকূপ স্থাপনসহ বিভিন্ন কারণে পানির সংকট দেখা দেয়। যাদের নলকূপ ৪০০-৫০০ ফুটের গভীর তারা নিয়মিত পানি পান। আর যেসব নলকূপ ৫০ থেকে ১৩০ ফুট গভীর এসব থেকে পানি পাওয়া যায় না।

সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার, মুন্সীবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়- নলকূপ থেকে পানি না পাওয়ার কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পাশের বাড়ি বা দূরবর্তী জায়গা থেকে পানি এনে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এই পানির সংকট আগামী বৈশাখ মাস পর্যন্ত থাকে। অপরিকল্পিত নলকূপ ও সেচ বসানোর কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

এদিকে, নলকূপে পানি না পাওয়ার বিষয় উল্লেখ করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। কে আর রাসেল নামে একজন লিখেছেন, ‘আমাদের পশ্চিম সোনারগাঁও এলাকায় একদম পানি পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিক ডিপ-টিওয়েল এর কারনে এই অবস্থা। পানির জন্য হাহাকার হচ্ছে। আমাদের এলাকা একবার পরিদর্শন করবেন। পানি ছাড়া মানুষ অচল, এই জনদুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নাই।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জের স্থানীয় সংবাদকর্মী হিফজুর রহমান তুহিন বলেন,উ’এলাকায় একাধিক ডিপ টিউবওয়েল থাকার কারণে চাপ টিউবওয়েলে (অগভীর নলকূপ) পানি উঠছে না। ব্যবহারের পানি ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে দুর্ভোগ বেড়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।’

পতনঊষার ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের মাস্টার নুরুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রায় ১০০ পরিবারের নলকূপে পানি আসেনা। আমার নলকূপ দুটি আছে একটি হলো ১৬০ ফুট আর একটি ১৩০ ফুট গভীর। এখন দুইটা নলকূপেই পানি আসে না। অনেক কষ্ট করে পানি খেতে হয়।’

কমলগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা সজিব আহমেদ বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুম আসলেই এই সমস্যা হয়। আসলে বোরো মৌসুমে সেচ দিয়ে পানি তুলার কারণে পানির স্তর নেমে যায়। এই কারণে অগভীর নলকূপ গুলো থেকে পানি পাওয়া যায় না।’

মৌলভীবাজার জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদুজ্জামান বলেন, ‘আসলে বছরের এই সময়টাতে পানির গভীরতা কমে যায় এজন্য অগভীর অনেক নলকূপে পানির সংকট দেখা যায়। এসব নলকূপ ব্যক্তিগত ভাবে লাগানো হয়েছে। তবে সরকারি ভাবে যেসব নলকূপ বসানো হয়েছে এগুলোতে পানির সংকট দেখা দেওয়ার কথা নয়।’