• ৪ঠা এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৬ই শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি

‘কম্বল পাইয়া ভালো হইছে, ঠান্ডাত বহুত উপকার হইব’

The Wall News.Com
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৫, ২০২৫
‘কম্বল পাইয়া ভালো হইছে, ঠান্ডাত বহুত উপকার হইব’

ওয়াল নিউজ ডেস্ক


‘শ্রীমঙ্গলে বেজান (বেশি) ঠান্ডা। বেশি ঠান্ডা হামরার বাগান দিকে। হামরা যে টেকা মজুরি পাই, ইটা দিয়া খাওয়াদাওয়াই হয় না। ঠান্ডার কাপড় কিনা কষ্ট হই যায়। হামরা কোনোরকমে ঠান্ডাটা কাটাই। হামদের বাগান টাউন থাকি বহুত দূরে। সব সুবিধা টাউনের মানুষ পায়। এত দূরে কম্বল লইয়া কেউ আয় না। এই ঠান্ডার মধ্যে অনেক কষ্ট হয় আমরার। টাকার লাগি একটা নতুন কম্বল কিনতে পারি না। পুরান কম্বল দিয়া অনেক কষ্টে শীত পার করি। আজ কম্বল পাইয়া ভালো হইছে, ঠান্ডাত বহুত উপকার হইব।’ খবর প্রথম আলোর।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কম্বল পেয়ে বয়স্ক নারী লক্ষ্মী রানী দাস এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করেন। এদিন লক্ষ্মী রানীর মতো শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা-বাগানের শীতার্ত শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে আড়াই শ কম্বল বিতরণ করা হয়। কম্বল পেয়ে শীতার্ত অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটে ওঠে।

কয়েক দিন ধরে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়েছে চায়ের রাজ্যে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীমঙ্গলের আমরাইলছড়া চা–বাগান, হুগলিছড়া চা–বাগানসহ কয়েকটি চা–বাগান ঘুরে আমরাইল সিক্সার্সের খেলোয়াড়দের সহযোগিতায় অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি করা হয়। আজ বুধবার সকালে আমরাইলছড়া চা–বাগানের দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল।

কম্বল বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন আমরাইলছড়া চা–বাগানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাবেদ আশরাফ, বাংলাদেশ চা–শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রেমসাগর হাজরা, আমরাইল চা–বাগানের সহকারী মহাব্যবস্থাপক শাহরিয়ার আশিক, সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্য প্রতিমা দাস, আমরাইল সিক্সার্সের অধিনায়ক আপন দাস, প্রথম আলোর শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি শিমুল তরফদার, স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এনডেঞ্জার্ড ওয়াইল্ড লাইফের (সিউ) সদস্য কাজল হাজরা, বিজয় পিকে প্রমুখ।

বাংলাদেশ চা–শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা প্রথম আলোকে বলেন, ‘চা-বাগানে একটু বেশি শীত পড়ে। শ্রমিকেরা যে মজুরি পান, তা দিয়ে সংসারের খাবার জোগাড় করাই কষ্টকর। প্রতিবছরই প্রথম আলো ট্রাস্ট চা–বাগানের অসহায় শ্রমিকদের জন্য শীতবস্ত্র পাঠায়। এ জন্য আমরা প্রথম আলো ট্রাস্টকে ধন্যবাদ জানাই। সরকারের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে মানবতার কাজে এগিয়ে আসুক। এতে অসহায় শীতার্ত মানুষের কষ্ট দূর হবে।’

উল্লেখ্য, শীতার্ত মানুষের জন্য প্রথম আলো ট্রাস্টে ৭০০টি কম্বল দিয়েছে আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। এর মধ্যে ২৫০টি কম্বল শ্রীমঙ্গলে বিতরণ করা হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত ত্রাণ তহবিলে মোট ৯ লাখ ৩৫ হাজার ২১০ টাকা সহায়তা এসেছে। এর মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেড ৫ লাখ টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি ২ লাখ টাকা, ড. পারভীন হাসান ১ লাখ টাকা ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। আর বিকাশের মাধ্যমে এসেছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২১০ টাকা।

এ কাজে এগিয়ে আসতে পারেন আপনিও। সহায়তা পাঠাতে পারেন ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে।

হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল
হিসাব নম্বর: ২০৭২০০০০১১১৯৪
রাউটিং নম্বর: ০৮৫২৬২৫৩৯
ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা
অথবা
বিকাশে পেমেন্ট করতে পারেন: ০১৭১৩-০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে।
এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও আপনার অনুদান পাঠাতে পারেন।