
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটের জাকিগঞ্জে বালাই হাওরে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। আকাংক্ষা একটাই, প্রিয় মুর্শিদের ইসালে সওয়াব। সেই লক্ষ্যে অগণিত ভক্ত, মুরিদীন, মুহিব্বিন এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লীর উপস্থিতিতে সিলেটের ফুলতলী ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন বালাই হাওরে চলছে আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) এর ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঈসালে সাওয়াব মাহফিল।
বুধবার এ মহতি মাহফিলে ধর্মীয় আবেগঘন পরিবেশ ও সুশৃঙ্খল এ মাহফিলে মুরিদীন-মুহিব্বিনের উদ্দেশ্যে তা’লীম-তরবিয়ত পেশ করেন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর উত্তরসূরী উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী (বড় ছাহেব) ফুলতলী।
তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ও উম্মুল মুমিনীনদের সাথে বেয়াদবী থেকে বেঁচে থাকবেন। যারা তাদের সম্পর্ক খারাপ মন্তব্য করে তাদের সম্পর্ক মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবন উবাই’র সাথে হবে। কুরআন কারীমের প্রতি আদব প্রদর্শনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শাআইরুল্লাহ তথা আল্লাহর নিদর্শনাবলির সম্মান না করলে তাকওয়া বিনষ্ট হয়। খারিজীদের ইমাম আবু তাহের কারামতী হাজরে আসওয়াদ খুলে নিয়ে গিয়েছিল। হাজরে আসওয়াদে চুমু দেওয়া তার মতে ছিল শিরক। সেই কারামিতীর অনুসারীরা আল্লাহর নিদর্শনসমূহে শিরক দেখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মনের আবেগে দীন-দুঃখী মানুষের পাশে যাই। এতীম অনাথের সাথে মাটির আসনে বসি। এতে যে প্রশান্তি পাওয়া যায় অন্য কোথাও এমন পাওয়া যায় না। আল্লাহর ওয়াস্তে দীন-দুঃখী মানুষের খেদমত করবেন। আমরা কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। বন্যা কবলিত কুমিল্লা, নোয়াখালীতে আমাদের উদ্যোগে গৃহনির্মাণ হয়েছে। কোথাও কারো ঘর আগুনে পুড়ে গেলে আমরা পুননির্মাণের চেষ্টা করি। বৃক্ষরোপণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যদি কোনো মুমিন চারা লাগায়, ফসল ফলায় এবং তা থেকে কোনো মানুষ কিংবা পশু-পাখি উপকার পায় তাও সদকাহ হিসাবে গণ্য হবে।
সকাল সাড়ে ১০টায় হাজারো এতিমসহ উপস্থিত মুরিদীন-মুহিব্বিনদের নিয়ে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর মাজার যিয়ারতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর খতমে কুরআন, খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান, খতমে দালাইলুল খাইরাতের পাশাপাশি স্মৃতিচারণমূলক ও জীবনঘনিষ্ট আলোচনায় অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে অতিবাহিত হয় পুরো দিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী, ফুলতলী কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নজমুল হুদা খান, মাসিক পরওয়ানার সম্পাদক মাওলানা রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী ও জার্মানির এরফোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাওলানা মারজান আহমদ চৌধুরীর যৌথ পরিচালনায় মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য ড. মোহাম্মদ শহীদুল হক, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আল্লামা নজমুদ্দীন চৌধুরী, মহাখালী গাউসুল আযম মসজিদের খতীব মাওলানা কবি রূহুল আমীন খান, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, যুক্তরাজ্যের টাওয়ার হ্যামলেটস বারার স্পিকার কাউন্সিলর ব্যারিস্টার সাইফুদ্দীন খালেদ, ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদরাসা চাঁদপুরের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মাওলানা এ কে এম মাহবুবুর রহমান, সিলেট সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শহীদুল হক প্রমুখ।
মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মাওলানা শিহাব উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, মুফতী মাওলানা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী, হযরত শাহজালাল দারুচ্ছুন্নাহ ইয়াকুবিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা কমরুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা এ.কে.এম মনোওর আলী, ইয়াকুবিয়া হিফযুল কুরআন বোর্ডের জেনারেল সেক্রেটারি হাফিয মাওলানা ফখরুদ্দীন চৌধুরী, জালালপুর জালালিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জ. উ.ম আব্দুল মুনঈম, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহবুবুর রহমান ফরহাদ, আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট আলিমে দ্বীন মাওলানা আবূ আব্দিল্লাহ মো. আইনুল হুদা, মহাখালী কামিল মাদরাসা মুহাদ্দিস মাওলানা মাহবুবুর রহমান, জকিগঞ্জ সিনিয়র মাদরাসার সাবেক সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোশাহিদ আহমদ কামালী, বুরাইয়া কামিল মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী, মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুহিবুর রহমান, রাখালগঞ্জ সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শেহাব উদ্দিন আলীপুরী, মাওলানা আজিজুর রহমান প্রমুখ।